বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবন-সংলগ্ন সোনাতলা গ্রামে আবারও বাঘের উপস্থিতির চিহ্ন পাওয়া গেছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় একটি বাঘ গ্রামের ভেতর দিয়ে ধানক্ষেতে নেমে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পরে রাতে কাছের একটি ধানক্ষেতে বাঘের স্পষ্ট পায়ের ছাপ দেখতে পান গ্রামবাসী। খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো গ্রামে আতঙ্ক দেখা দেয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বাঘটি জব্বার ডাক্তারের বাড়ির দিক থেকে এসে ধানক্ষেতে নামে। রাতে লতিফ মেম্বারের বাড়ির সামনের ধানক্ষেতে এর পায়ের ছাপ পাওয়া যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় কমিউনিটি প্যাট্রলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরা দ্রুত বন বিভাগকে খবর দেন। এর মাত্র তিন দিন আগেও একই গ্রামের পানিরঘাট এলাকায় ভোলা নদী সাঁতরে একটি বাঘ লোকালয়ের দিকে চলে এসেছিল। অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দুবার বাঘের চিহ্ন মেলায় সুন্দরবনপাড়ের মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
খবর পেয়ে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ বনরক্ষীদের নিয়ে রোববার রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা ধানক্ষেত ও আশপাশের এলাকায় বাঘের উপস্থিতি ও চলাচলের চিহ্ন পর্যবেক্ষণ করেন। সোমবার সকালেও বন বিভাগের সদস্যরা সিপিজি সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন ধানক্ষেত ও বাড়িঘরের আশপাশে তল্লাশি চালান। বাঘটির সন্ধানে ড্রোন ওড়ানোসহ নজরদারি চালানো হলেও এর সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি।
স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ বলেন, বাঘের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে বন বিভাগ মাঠে রয়েছে। বাঘটি যাতে মানুষ বা গৃহপালিত পশুর ক্ষতি না করে স্বাভাবিকভাবে গভীর বনে ফিরে যেতে পারে, সেই চেষ্টা চলছে। গ্রামবাসীকে সতর্ক করতে এলাকাজুড়ে মাইকিং করা হচ্ছে।
বন বিভাগ এলাকাবাসীকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে রাতে সাবধানে চলাচল করা, বাঘের দেখা মিললে তার কাছে না যাওয়া বা তাড়া না করা এবং দ্রুত বন বিভাগকে খবর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সোনাতলা গ্রাম সুন্দরবনের একেবারে কাছাকাছি হওয়ায় বন ও লোকালয়ের মাঝামাঝি এলাকায় বাঘের বিচরণের ঘটনা মাঝে মাঝেই ঘটে। এ অবস্থায় কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন চলাফেরায় সতর্কতা অবলম্বন করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে জানান, সুন্দরবন থেকে বেরিয়ে আসা বাঘ মাঝে মাঝে গবাদিপশু শিকার করে আবার বনে ফিরে যায়। তবে এবার পরপর দুবার লোকালয়ে বাঘের চিহ্ন মেলায় রাতে ঘর থেকে বের হওয়া এবং ভোরে খেতে যাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা। বন বিভাগের টহল ও নজরদারি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে।