হাইকোর্টের নির্দেশে বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে চালানো সমন্বিত অভিযানে প্রায় ১০০ টন প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। একই অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা ৫০টি অবৈধ স্থাপনা। সোমবার রাজধানীর ইসলামপুর এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়, যা লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকার আওতায় পড়ে। অভিযানটি ছিল বুড়িগঙ্গার দূষণ ও দখল ঠেকাতে নেওয়া সমন্বিত উদ্যোগের অংশ।

বর্জ্য সরাতে দুটি এক্সকাভেটর ও পাঁচটি ডাম্প ট্রাক ব্যবহার করা হয়। নদীর দুই পাড় থেকে জমে থাকা বর্জ্যের স্তূপ পরিষ্কারের পাশাপাশি দখল করে গড়ে ওঠা স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুড়িগঙ্গার পাড় পুরোপুরি বর্জ্যমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের একটি রিট আবেদনের (রিট পিটিশন নং ৩৬৭৬/২০১০) পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট নদীর পাড়ের বর্জ্য সরিয়ে পরিচ্ছন্নতা ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত কমিটি এই অভিযানের আয়োজন করে।

যৌথ অভিযানে নেতৃত্ব দেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), ঢাকা জেলা প্রশাসন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযানস্থলে উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন মজুমদার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফ উদ্দিন, লালবাগের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আমিনুল ইসলাম এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা মহানগর কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম। সংস্থাগুলোর অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি নিয়মিত পুলিশ ও নদী পুলিশের সদস্য এবং স্থানীয় সাংবাদিকরাও অভিযানে উপস্থিত ছিলেন। পুরো অভিযানটি আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।

বুড়িগঙ্গা দীর্ঘদিন ধরে শিল্পবর্জ্য, পয়ঃবর্জ্য ও প্লাস্টিক দূষণে বিপর্যস্ত। পরিবেশবিদরা বলছেন, এক দিনের অভিযানে নদী বাঁচবে না; দূষণের উৎস বন্ধ করা ও নিয়মিত নজরদারি না থাকলে পাড় আবার বর্জ্যে ভরে যাবে। কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং বাকি অবৈধ স্থাপনাও পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, প্লাস্টিক ও সাধারণ বর্জ্য সম্পূর্ণ অপসারণ, অবশিষ্ট অবৈধ স্থাপনা ধ্বংস এবং নদীতে দূষণরোধী বিস্তৃত ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এই সমন্বিত কার্যক্রম থামবে না।