দেশকে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত করতে যা যা করা দরকার, সরকার তার সবই করবে—এমন আশ্বাস দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত 'প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: বর্ধিত উৎপাদক দায়িত্ব (ইপিআর-২০২৬)' শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। আয়োজক ছিল ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও প্রথম আলো।

মন্ত্রী জানান, ১৯৯০ সালে দেশে প্লাস্টিকের ব্যবহার ছিল ১৫ হাজার টন, ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ টনে—অর্থাৎ ২৮ বছরে ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ৮০ গুণ। তাঁর ভাষায়, প্লাস্টিক বাংলাদেশের জন্য ভয়াবহ দুর্যোগ তৈরি করছে; স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি জলাবদ্ধতার জন্যও এটি দায়ী। এমনকি বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশে ছয় থেকে আট ফুট পুরু প্লাস্টিকের স্তর জমে আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবস্থা দুর্বল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের সঙ্গেও পরিবেশগত অবনতির সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করেন মন্ত্রী।

প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গত আগস্টে পরিবেশ অধিদপ্তর 'ইপিআর-২০২৬' নামে নির্দেশিকা তৈরি করেছে। এর আওতায় প্লাস্টিক উৎপাদক ও আমদানিকারকদের ব্যবহৃত প্লাস্টিক সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের (রিসাইক্লিং) দায়িত্ব নিশ্চিত করতে চায় সরকার। তবে মন্ত্রী স্বীকার করেছেন, নির্দেশিকাটি প্রশংসা পেলেও এর আসল চ্যালেঞ্জ হবে বাস্তবায়ন।

গোলটেবিলে বিশেষজ্ঞরা বলেন, একক কোনো পক্ষের পক্ষে টেকসই প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয়। উৎপাদক, ভোক্তা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয়, উৎসেই বর্জ্য আলাদা করা এবং অনানুষ্ঠানিক বর্জ্য সংগ্রহকারীদের আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থায় আনা জরুরি। পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্লাস্টিক উৎপাদন-ব্যবহারের নির্ভরযোগ্য তথ্য সংরক্ষণের ওপরও জোর দেন তাঁরা।

আলোচনায় বিভিন্ন উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আজমান আহমেদ চৌধুরী বলেন, দ্রুত নগরায়ণের যুগে প্লাস্টিক ব্যবহারের জ্যামিতিক বৃদ্ধি বড় সংকট তৈরি করেছে; এ অবস্থায় ইপিআর একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। তিনি তৃণমূল পর্যায়ে নির্দেশিকা বাস্তবায়ন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান। ওয়াটারএইড মূলত সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করে বলেও তিনি জানান।