গুরুতর পায়ের ক্ষত ও শারীরিক দুর্বলতায় ভুগতে থাকা একটি ঘোড়ার চিকিৎসা চলছে ১৩ দিন ধরে। ঘোড়াটির চিকিৎসা ও পরিচর্যায় কাজ করছেন Wildlife And Snake Rescue Team In Bangladesh (WSRTBD)-এর উদ্ধারকর্মী মাহমুদুল হাসান সোহেল। চিকিৎসার ১৩তম দিনে ঘোড়াটিকে দেখতে গিয়ে নিজ হাতে ক্ষত ড্রেসিং করে দিয়েছেন একই দলের উদ্ধারকর্মী নুর হাসান নাহিদ।

ঘোড়াটিকে অসুস্থ, আহত ও হাঁটতে অক্ষম অবস্থায় পাওয়ার পর তার চিকিৎসার উদ্যোগ নেন সোহেল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোড়াটিকে নিয়ে একটি পোস্ট দেখার পর তিনি নিয়মিত চিকিৎসা ও পরিচর্যা শুরু করেন। ঘোড়াটির পায়ের ক্ষত পরিষ্কার করা, ওষুধ প্রয়োগ এবং ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ করার মাধ্যমে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এ কাজে সহযোগিতা পেতে Rangpur Animal Rescue and Adoption Network-এর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন।

ঘোড়াটির শারীরিক অবস্থা শুরুতে বেশ খারাপ ছিল। শরীর অতিরিক্ত রোগা হয়ে পড়েছিল, পাঁজরের হাড় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। শারীরিক দুর্বলতার পাশাপাশি পায়ের গুরুতর ক্ষতের কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতেও সমস্যা হচ্ছিল।

চিকিৎসার ১৩তম দিনে ঘোড়াটিকে দেখতে আসেন নুর হাসান নাহিদ। তিনি ঘোড়াটির পায়ের ক্ষত নিজ হাতে ড্রেসিং করে দেন। ঘোড়াটির চিকিৎসার এই পর্যায়ে তাঁর উপস্থিতি ও পরিচর্যায় অংশগ্রহণ অসুস্থ প্রাণীটির পাশে দাঁড়ানোর সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে।

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগের তুলনায় ঘোড়াটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। তবে গুরুতর ক্ষত ও শারীরিক দুর্বলতা থেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে আরও সময় ও নিয়মিত পরিচর্যা প্রয়োজন হতে পারে। ঘোড়াটি কবে সম্পূর্ণ সুস্থ হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

একটি অসহায় প্রাণীকে সুস্থ করে তোলার এই প্রচেষ্টায় নিয়মিত চিকিৎসা, ধৈর্য ও আন্তরিক পরিচর্যা গুরুত্বপূর্ণ। মাহমুদুল হাসান সোহেলের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি নুর হাসান নাহিদের সহযোগিতাও সেই উদ্যোগের অংশ। ঘোড়াটি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে, সেটিই এখন প্রত্যাশা।