পরিবেশের জন্য বিরল এক সুখবর দিয়েছে গ্লোবাল ম্যানগ্রোভ ওয়াচ (জিএমডব্লিউ)। সংস্থাটির সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, গত চার দশকে (১৯৮৫–২০২৫) বিশ্বজুড়ে ম্যানগ্রোভ আচ্ছাদন নিট হিসাবে বেড়েছে ৪৭৭ দশমিক ২ বর্গকিলোমিটার, যা এই সময়ের মোট আচ্ছাদনের প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ। জিএমডব্লিউ হলো গ্লোবাল ম্যানগ্রোভ অ্যালায়েন্সের একটি ম্যাপিং উদ্যোগ, যা বিশ্বজুড়ে ম্যানগ্রোভের অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে।
এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ম্যানগ্রোভ বেড়েছে অস্ট্রেলিয়ায়—১ হাজার ৩৯৬ বর্গকিলোমিটার। ভারতে বেড়েছে ১ হাজার ১৮০ বর্গকিলোমিটার। ফিলিপাইনে বেড়েছে ৪৭৩ দশমিক ৪৩ বর্গকিলোমিটার, ফলে ২০২৫ সালে দেশটির মোট ম্যানগ্রোভ আবাস দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৭ দশমিক ৭৮ বর্গকিলোমিটারে। পাকিস্তান ও সেনেগালেও আচ্ছাদন বেড়েছে যথাক্রমে ৪৩৯ ও ৩৪৯ বর্গকিলোমিটার।
তবে জিএমডব্লিউ সতর্ক করে বলেছে, এই সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দেশের বড় ক্ষতি। ১৯৮৫ সালের পর থেকে ইন্দোনেশিয়া হারিয়েছে ২ হাজার ৪৩ বর্গকিলোমিটার ম্যানগ্রোভ, মিয়ানমার হারিয়েছে ১ হাজার ৪৫৭ বর্গকিলোমিটার। মালয়েশিয়া ও নাইজেরিয়াও হারিয়েছে যথাক্রমে ৩৮৯ ও ৩১২ বর্গকিলোমিটার।
চলতি বছরের জুনে বিজ্ঞান সাময়িকী 'সায়েন্স'-এ প্রকাশিত এক গবেষণার সঙ্গেও এই চিত্র মিলে যায়। তাতে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের আগে বিশ্বজুড়ে ম্যানগ্রোভ কমলেও এরপর থেকে বেশির ভাগ এলাকায় তা আবার ফিরে আসছে; বন ধ্বংস ও আচ্ছাদন হ্রাসের গতিও কমেছে। জিএমডব্লিউর মতে, বৃদ্ধির একাংশ এসেছে বনায়ন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম থেকে। গবেষকদের ভাষায়, ম্যানগ্রোভ নতুন আবাসে ছড়িয়ে পড়ছে এবং পুরোনো আবাসেও আবার গজিয়ে উঠছে, যা বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আশা জাগায়।
ফিলিপাইনের সিয়ারগাও দ্বীপের ডেল কারমেন পৌরসভা এই পুনরুদ্ধারের সফল উদাহরণ। সেখানে ২০১২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে স্থানীয় ম্যানগ্রোভ রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৫০০ হেক্টর এবং এলাকাটি রামসার কনভেনশনের অধীনে আন্তর্জাতিক গুরুত্বের জলাভূমির স্বীকৃতি পেয়েছে। ফিলিপাইনে জেলে রবার্তো 'দোদয়' বালোনের নেতৃত্বে স্থানীয় জেলে সম্প্রদায়ের ম্যানগ্রোভ পুনরোপণের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে; এই কাজের জন্য তিনি ২০২১ সালে র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার পান। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, ম্যানগ্রোভ উপকূলীয় জনপদকে ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি থেকে রক্ষা করে এবং জমিভিত্তিক বনের তুলনায় চার গুণ পর্যন্ত বেশি হারে কার্বন শোষণ করতে পারে।