রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর ও বগুড়া জেলার চারটি এলাকাকে 'বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা' ঘোষণার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বন্যপ্রাণী উপদেষ্টা বোর্ডের ৪১তম সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর আওতায় গঠিত এই বোর্ড সংরক্ষণ নীতি, সংরক্ষিত এলাকা নির্ধারণ ও অবৈধ বাণিজ্য দমনের মতো বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দিয়ে থাকে। সভায় পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে ছয়টি এলাকাকে বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা ঘোষণার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল রাজশাহীর পদ্মা চরের শিমলা পার্ক ও গোদাগাড়ীর বাবু ডাইং এলাকা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাবু ডাইং পর্যটন ও বনভোজন কেন্দ্র, রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার বারারদহ ও পাটোয়াকামারী বিল এবং বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বারাবিলা বিল। তবে ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরাকুল মৌজার জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ এলাকা সংরক্ষণের প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়নি।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি বাদ দিয়ে শুধু সরকারি খাস জমির আওতাধীন অংশই এই ঘোষণার অন্তর্ভুক্ত হবে। বদরগঞ্জের বারারদহ ও পাটোয়াকামারী বিল পুরোপুরি খাস জমিতে হওয়ায় দুই বিলের পুরো এলাকাকেই বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন ও ইজারা দেওয়া জমির জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জমির মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কর্মশালা আয়োজন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিলকেন্দ্রিক এলাকাগুলো মাছের প্রজননক্ষেত্র হিসেবে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, শীতকালে পরিযায়ী পাখির আবাস হিসেবেও তেমনি পরিচিত। সংরক্ষিত মর্যাদা পেলে এসব জলাভূমিতে অবৈধ দখল, যত্রতত্র মাছ ধরা ও পাখি শিকারের মতো চাপ কমবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা। এর আগে গত মে মাসে রাজশাহীর তানোর ও গোদাগাড়ীর দুটি জলাভূমিকে দেশের প্রথম 'জলাভূমিনির্ভর বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য' ঘোষণা করেছিল সরকার; এবারের অনুমোদন সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।