উজবেকিস্তানের সামারকান্দে অনুষ্ঠিত সাইটিস (বিপন্ন বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংক্রান্ত কনভেনশন) পক্ষভুক্ত দেশগুলোর ২০তম সম্মেলনে হাঙর ও রে মাছের সুরক্ষায় ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সম্মেলনে উপস্থাপিত হাঙর ও রে-সংক্রান্ত সবগুলো প্রস্তাবই পাস হয়েছে, যার আওতায় এসেছে ৭০টির বেশি প্রজাতি।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওশেনিক হোয়াইটটিপ হাঙর, তিমি হাঙর এবং মান্তা ও ডেভিল রে মাছকে সাইটিসের পরিশিষ্ট-১-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; ফলে এসব প্রজাতির আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক বাণিজ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হবে। ওশেনিক হোয়াইটটিপকে পরিশিষ্ট-১-এ উন্নীত করার প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়েছে ৮৩ শতাংশ। ওয়েজফিশ ও জায়ান্ট গিটারফিশের ক্ষেত্রে বন্য পরিবেশ থেকে ধরা নমুনা রপ্তানির কোটা শূন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আর গালপার হাঙর, স্মুথহাউন্ড হাঙর ও টোপ হাঙরকে রাখা হয়েছে পরিশিষ্ট-২-এ, যেখানে পারমিট ও 'অ-ক্ষতিকর' প্রত্যয়ন ছাড়া বাণিজ্য চলবে না।

ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটির (ডব্লিউসিএস) হাঙর ও রে সংরক্ষণ কর্মসূচির পরিচালক লুক ওয়ারউইক এসব সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও এশিয়ার দেশগুলো একজোট হয়ে প্রস্তাবগুলো পাস করেছে, আর এই সিদ্ধান্তগুলো এসেছে ঠিক তখন, যখন অনেক প্রজাতির হাতে সময় প্রায় শেষ হয়ে আসছে।

বিশ্বে হাঙর ও রে প্রজাতির ৩৭ শতাংশের বেশি এখন বিলুপ্তির হুমকিতে রয়েছে। গত ৫০ বছরে মুক্ত সমুদ্রের হাঙরের সংখ্যা কমেছে ৭০ শতাংশের বেশি, আর জরিপ করা প্রতি পাঁচটি প্রবাল প্রাচীরের একটিতে রিফ হাঙর কার্যত বিলুপ্ত। পাখনা, ফুলকার প্লেট ও মাংসের আন্তর্জাতিক বাজারই এই ধ্বংসের প্রধান চাপ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা; নতুন তালিকাভুক্তি সেই বাজারের বড় ফাঁকগুলো বন্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

২৪ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলা এই সম্মেলনে ১৮৫টি দেশের তিন হাজারের বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। এশীয় বড় বিড়ালজাতীয় প্রাণী—বাঘ, চিতাবাঘ ও এশীয় সিংহ—নিয়ে ভবিষ্যৎ সম্মেলনগুলোতে নিয়মিত প্রতিবেদনের নতুন ব্যবস্থাও অনুমোদন পেয়েছে। বাংলাদেশ সাইটিসের পক্ষভুক্ত দেশ হওয়ায় এসব সিদ্ধান্ত বঙ্গোপসাগরের হাঙর-রে বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ; দেশের নতুন বন্যপ্রাণী অধ্যাদেশে গঠিতব্য বৈজ্ঞানিক কমিটিকে জাতীয় সাইটিস কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।