বাঘ ও হাতি হত্যার শাস্তি আরও কঠোর করে সরকার বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ জারি করেছে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে জারি করা এই অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, বেঙ্গল টাইগার বা এশীয় হাতি শিকার করলে কমপক্ষে দুই বছর ও সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং এক লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হবে। একই অপরাধ আবার করলে শাস্তি বেড়ে হবে সর্বোচ্চ ১২ বছর কারাদণ্ড ও ১৫ লাখ টাকা জরিমানা।

অনুমতি ছাড়া বাঘ বা হাতির ট্রফি, মাংস কিংবা দেহাংশ সংগ্রহ, পরিবহন বা কেনাবেচা করলেও রয়েছে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড অথবা তিন লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা; পুনরাবৃত্তিতে শাস্তি পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা। ভালুক, নেকড়ে, চিতাবাঘ, মেঘচিতা, প্যাঙ্গোলিন, হরিণ, শকুন, তিমি, কুমির, কচ্ছপ, অজগর ও হাঙরসহ তফসিলভুক্ত অন্যান্য প্রাণী শিকারের ক্ষেত্রেও প্রায় একই মাত্রার শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন অধ্যাদেশে অপরাধের ধরনেও বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন থেকে তফসিল-১(বি) তালিকাভুক্ত আরও ২৫০ প্রজাতির বন্যপ্রাণী হত্যা আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে; আগে এই বিধান ছিল শুধু বাঘ ও হাতির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ। সব মিলিয়ে ১ হাজার ৫৯৯ প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদ এসেছে এই আইনের সুরক্ষার আওতায়। আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে বন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরোয়ানা ছাড়াই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করতে পারবেন।

সংরক্ষিত এলাকার সীমানা নির্ধারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যানের দুই কিলোমিটারের মধ্যে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ; সংরক্ষিত এলাকায় চাষাবাদ, খনিজ উত্তোলন, আগুন লাগানো ও বিদেশি আগ্রাসী প্রজাতি প্রবেশও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রাচীন, ঐতিহ্যবাহী ও পবিত্র গাছ এবং কুঞ্জবন ধ্বংস করলে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

বন্যপ্রাণী উদ্ধার, চিকিৎসা ও সংরক্ষণের জন্য 'বন্যপ্রাণী ট্রাস্ট ফান্ড' গঠন করা হবে। বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও সমুদ্রবন্দরে পাচার রোধে পুলিশ, কাস্টমস ও বিজিবির সমন্বয়ে কাজ করবে 'বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট'। পাশাপাশি একটি বৈজ্ঞানিক কমিটি জাতীয় সাইটিস কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্যপ্রাণী কেনাবেচার বিজ্ঞাপন দেওয়া কিংবা বন্যপ্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার ভিডিও প্রকাশও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।