শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রূপনারায়ণকুড়া ইউনিয়নের গোপালপুর ও পাইখাতলা এলাকায় একটি মেছোবিড়ালকে বাঘ ভেবে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বন্যপ্রাণীটি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় সেটিকে বাঘ বলে মনে করছেন অনেকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে গোপালপুর এলাকায় প্রাণীটিকে দেখতে পান এলাকাবাসী। এরপর তিন থেকে চার দিন আগে পার্শ্ববর্তী পাইখাতলা এলাকাতেও কয়েকজন প্রাণীটিকে দেখেছেন বলে জানান। প্রাণীটির চেহারা অনেকটা বাঘের মতো মনে হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

পাইখাতলা এলাকার বাসিন্দা এরশাদ আলী জানান, প্রাণীটিকে দেখতে অনেকটা বাঘের মতো। তবে সেটি আসলেই বাঘ কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

এদিকে, প্রাণীটির সন্ধানে বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে পাইখাতলা এলাকার ২৫ থেকে ৩০ জন যুবক ধানক্ষেতে তল্লাশি চালান। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেও তাঁরা প্রাণীটির সন্ধান পাননি।

প্রাণীটি মূলত মেছোবিড়াল (Fishing Cat), যার বৈজ্ঞানিক নাম Prionailurus viverrinus। এটি বাংলাদেশের দেশীয় বন্য বিড়ালজাতীয় প্রাণীদের একটি। দেহে কালচে দাগ ও ডোরাকাটা নকশা থাকায় দূর থেকে একে বাঘের মতো মনে হতে পারে। তবে মেছোবিড়াল ও বাঘ সম্পূর্ণ আলাদা প্রজাতির প্রাণী।

মেছোবিড়াল সাধারণত বিল, হাওর, জলাভূমি, নদী ও জলাশয়ের আশপাশে বিচরণ করে। মাছ এর অন্যতম প্রধান খাদ্য হলেও ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি, ব্যাঙ ও অন্যান্য ছোট প্রাণীও শিকার করে।

বন্যপ্রাণী সম্পর্কে অজ্ঞতা ও ভুল ধারণা থেকে অনেক সময় নিরীহ প্রাণীকেও বিপজ্জনক মনে করা হয়। মেছোবিড়াল বন্য প্রাণী হওয়ায় এর কাছাকাছি যাওয়া বা ধরার চেষ্টা করা উচিত নয়। একই সঙ্গে শুধু প্রাণীটির উপস্থিতির কারণে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে তাড়া করা কিংবা আঘাত করাও অনুচিত।

প্রাকৃতিক পরিবেশে বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি স্বাভাবিক। কোনো প্রাণী লোকালয়ের কাছাকাছি দেখা গেলে সেটিকে শনাক্ত করার আগে গুজব ছড়ানো বা দলবদ্ধভাবে ধরতে যাওয়ার পরিবর্তে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।

নালিতাবাড়ীর এ ঘটনা বন্যপ্রাণী সম্পর্কে জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে এনেছে। স্থানীয় মানুষকে মেছোবিড়ালসহ দেশীয় বন্যপ্রাণীর পরিচিতি, স্বভাব ও পরিবেশগত গুরুত্ব সম্পর্কে জানানো গেলে অকারণ আতঙ্ক কমবে এবং প্রাণীগুলোর নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সহজ হবে।

প্রাণীটিকে আবার দেখা গেলে সেটিকে বিরক্ত না করে বন বিভাগ বা অভিজ্ঞ বন্যপ্রাণী উদ্ধারকর্মীদের খবর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মানুষ ও বন্যপ্রাণী উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতা এবং সহাবস্থানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।