দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে প্রায় নিঃশেষ হয়ে যাওয়া মোজাম্বিকের জাম্বেজি বদ্বীপে বন্যপ্রাণীর অসাধারণ প্রত্যাবর্তন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। এই পুনরুদ্ধারে ভূমিকার জন্য জাম্বেজি ডেল্টা সাফারিস নামের একটি প্রতিষ্ঠান পেয়েছে ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ মারখোর পুরস্কার। আর্মেনিয়ার ইয়েরেভানে জাতিসংঘ জীববৈচিত্র্য সম্মেলন (কপ-১৭) চলাকালে ২২ অক্টোবর পুরস্কারটি দেওয়া হয়।

মধ্য মোজাম্বিকের কুতাদা ১১ এলাকায় ১৯৯৪ সাল থেকে কাজ করছেন সংরক্ষণবিদ মার্ক হ্যালডেন। বছরের পর বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে সেখানকার বন্যপ্রাণী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে মোজাম্বিকের ব্যবসায়ী কার্লোস পাচেকো ফারিয়ার সঙ্গে মিলে তিনি গড়ে তোলেন জাম্বেজি ডেল্টা সাফারিস। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, কয়েক দশকের প্রচেষ্টায় এলাকাটিতে আফ্রিকান মহিষের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ১০০ থেকে বেড়ে ৩৫ হাজারে পৌঁছেছে; সেবল হরিণ বেড়েছে মাত্র ৪০টি থেকে প্রায় ৪ হাজারে।

২০১৮ সালে এলাকাটিতে ২৪টি সিংহ নতুন করে ছাড়া হয়েছিল; এখন সিংহের সংখ্যা বেড়ে আনুমানিক ১২০টিতে পৌঁছেছে। চোরাশিকার প্রতিরোধ, বন্যপ্রাণী পুনঃপ্রবর্তন ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের উন্নয়ন—এই তিন খাতেই কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি। এলাকার ব্যবস্থাপনা থেকে পাওয়া সরকারি রাজস্বের একটি অংশ স্থানীয় জনগণের কল্যাণে ব্যয় হয় বলেও জানানো হয়েছে।

তবে এই মডেল নিয়ে বিতর্কও আছে। সংরক্ষণের অর্থায়নে নিয়ন্ত্রিত ট্রফি শিকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্যগুলোর সবকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি বলে সংরক্ষণবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মঙ্গাবে উল্লেখ করেছে; তবু মোজাম্বিকের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফাউন্ডেশন অঞ্চলটিতে বন্যপ্রাণীর উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধারের প্রমাণ নথিভুক্ত করেছে। ২০২৬ সালে প্রকাশিত ৮৯টি গবেষণার একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সাব-সাহারান আফ্রিকার ১৩টি দেশের নথিভুক্ত ট্রফি শিকার ফলাফলের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই বন্যপ্রাণী বা স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য ইতিবাচক ছিল; তবু স্বচ্ছতা ও সুবিধা ভাগাভাগি নিয়ে বিতর্ক চলছেই।

২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মারখোর পুরস্কার দুই বছর পরপর দেওয়া হয়; এর আগে তানজানিয়া, নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে ও ইরানের উদ্যোগ এই স্বীকৃতি পেয়েছে। পুরস্কার গ্রহণের পর হ্যালডেন আশা প্রকাশ করেছেন, কুতাদা ১১-এর অভিজ্ঞতা এলাকাটির বাইরেও সংরক্ষণ প্রচেষ্টায় অনুপ্রেরণা জোগাবে—টেকসই ব্যবস্থাপনা ও সুরক্ষা থাকলে বন্যপ্রাণীর জনসংখ্যা যে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, এটাই তার বড় প্রমাণ।