ফিলিপাইনের অরোরা মেমোরিয়াল জাতীয় উদ্যানের একটি বিশ্রামস্থলে একসঙ্গে ৮ হাজারের বেশি সোনালি-মুকুট উড়ন্ত শিয়াল বাদুড় দেখা গেছে। দেশটির পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের (ডিইএনআর) সেন্ট্রাল লুজন কার্যালয় জানিয়েছে, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের সময় এই বিশাল ঝাঁকটি নজরে আসে। এই বিশ্রামস্থলে প্রজাতিটির দেখা মিলল এ নিয়ে দ্বিতীয়বার। বিশ্রামস্থলটি জাতীয় উদ্যানের সুরক্ষিত এলাকার ভেতরে অবস্থিত।

সোনালি-মুকুট উড়ন্ত শিয়াল বিশ্বের বড় আকারের ফলখেকো বাদুড়দের অন্যতম এবং এটি শুধু ফিলিপাইনেই পাওয়া যায়। মাথার সোনালি রঙের পশমের কারণেই এর এমন নাম। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) লাল তালিকায় প্রজাতিটি 'বিপন্ন' হিসেবে চিহ্নিত; শিকার ও বাসস্থান ধ্বংসের কারণে এর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। এ কারণে এত বড় একটি ঝাঁকের সন্ধান পাওয়া সংরক্ষণবিদদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।

ডিইএনআর-এর স্থানীয় কর্মকর্তা মারিভিক সান্তোস বলেন, এসব বাদুড়ের বিশ্রামস্থল ও খাদ্য সংগ্রহের এলাকা রক্ষা করা অরোরার বিস্তীর্ণ বনভূমির সুস্থতার জন্য অত্যন্ত জরুরি। ফলখেকো বাদুড় দিনের বেলা বিশ্রামস্থলে কাটায় এবং সন্ধ্যায় খাদ্যের খোঁজে বের হয়। এরা বনের বীজ ছড়িয়ে দেওয়া ও পরাগায়ণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বিশেষ করে ফলবান গাছের বীজ দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়ে এদের মাধ্যমেই। এদের সক্রিয় বিচরণ মানে বনের প্রাকৃতিক পুনরুৎপাদন প্রক্রিয়া চলমান থাকা।

বিভাগের আঞ্চলিক নির্বাহী পরিচালক রালফ পাবলো সব সরকারি সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী দল ও স্থানীয় সম্প্রদায়কে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষায়, সম্মিলিত পদক্ষেপ ও ভাগ করা দায়িত্বের মাধ্যমেই সেন্ট্রাল লুজনের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা সম্ভব। কর্মকর্তারা বলছেন, এত বড় ঝাঁকের উপস্থিতি প্রমাণ করে উদ্যানটির পরিবেশ এখনো এই বাদুড়দের জন্য অনুকূল; তবে এই অবস্থা ধরে রাখতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও বাসস্থান সুরক্ষা অব্যাহত রাখতে হবে।

বাদুড়দের দেখা মেলার পর ডিইএনআর টেকসই বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণের ওপরও জোর দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্রামস্থলে মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত উপদ্রব ঠেকানো এবং আশপাশের বনভূমি অক্ষত রাখাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ; স্থানীয় সম্প্রদায়ের সচেতনতা ও সহযোগিতা ছাড়া এই সাফল্য ধরে রাখা কঠিন হবে।