আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য সম্মেলনের (কপ-১৭) নেতাদের শীর্ষ বৈঠকে কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ত টোকায়েভ তার দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেছেন। তার ভাষায়, সাইগা হরিণের ফিরে আসা কাজাখস্তানের অন্যতম বড় সংরক্ষণ অর্জন। একসময় বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে থাকা এই প্রাণী এখন দেশটির স্তেপ তৃণভূমিতে আবার বিশাল পালে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
টোকায়েভ জানান, ২০০৩ সালে কাজাখস্তানে সাইগা ছিল মাত্র ২১ হাজার। চলতি বছরের বসন্তে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৭ লাখে। বর্তমানে বিশ্বের মোট সাইগা হরিণের প্রায় ৯৮ শতাংশই বাস করে কাজাখস্তানে। শেষ বরফযুগ পার করে টিকে থাকা এই প্রাচীন প্রাণী স্তেপ অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পাহাড়ি অঞ্চলের গর্ব তুষার চিতার ক্ষেত্রেও এসেছে সুখবর। দেশটির তুষার চিতার প্রায় ৭০ শতাংশ বিচরণ এলাকা সুরক্ষিত অঞ্চলের ভেতরে পড়েছে। নির্ভরযোগ্য সুরক্ষা ও নিয়মিত বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের ফলে গত শতকের নব্বইয়ের দশকের সংকটজনক নিম্নস্তর থেকে সংখ্যা বেড়ে এখন প্রায় ১৯০টিতে পৌঁছেছে।
এ বছর জুলাইয়ে কাজাখস্তানে ৭০ বছর পর প্রথমবারের মতো বন্য পরিবেশে একটি বাঘ ছাড়া হয়েছে, যা দেশটির জন্য ঐতিহাসিক মাইলফলক। বিলুপ্ত তুরান বাঘ পুনরুদ্ধারে রাশিয়া, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ডসহ আন্তর্জাতিক অংশীদাররা সহযোগিতা করছে। পাশাপাশি চেক প্রজাতন্ত্র, জার্মানি ও হাঙ্গেরির অংশীদারদের সঙ্গে প্রজেভালস্কির ঘোড়া পুনঃপ্রবর্তনের কাজও চলছে।
তবে কাস্পিয়ান সাগরের সিল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন টোকায়েভ। গত এক শতকে কাস্পিয়ান সিলের সংখ্যা ১০ লাখ থেকে কমে ২ লাখ ৭০ হাজারে নেমে এসেছে এবং কাজাখস্তানে প্রজাতিটি বিরল ও বিপন্ন হিসেবে তালিকাভুক্ত। সিল রক্ষায় পাঁচটি উপকূলীয় দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার কথায়, আরাল সাগরের ট্র্যাজেডি প্রকৃতির প্রতি অবহেলার ভয়াবহ পরিণতির স্মরণিকা; কাস্পিয়ান সাগরকে একই পরিণতির মুখে ফেলা যাবে না।
শীর্ষ বৈঠকে টোকায়েভ 'তাজা কাজাখস্তান' নামে তার দেশের পরিবেশ উদ্যোগও তুলে ধরেন এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ডাক দেন। তার মতে, কাজাখস্তানের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে—দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা, ধারাবাহিক বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব একসঙ্গে কাজ করলে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিও ঘুরে দাঁড়াতে পারে, যা অন্য দেশগুলোর জন্যও অনুপ্রেরণা হতে পারে।