শীত পুরোপুরি নামার আগেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জলাশয়গুলোতে আনাগোনা শুরু হয়েছে পরিযায়ী পাখির। এসব অতিথি পাখির নিরাপদ বিচরণ ও অভয়ারণ্য নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধসহ একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ পরিচালক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শীত আসন্ন হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জলাশয়ে পরিযায়ী পাখির আনাগোনা শুরু হয়েছে। এসব জলাশয় পাখির অবাধ বিচরণের ক্ষেত্র, আর পাখিদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা।

দেশের অন্যতম পরিচিত পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নাম দীর্ঘদিনের। সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাসের বিস্তীর্ণ জলাশয়গুলো শীতের অতিথি পাখিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়। দূর উত্তরের শীতপ্রধান অঞ্চল থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এসব পাখি এখানে আসে খাবার ও উষ্ণতার খোঁজে। জলাশয়ের শান্ত পরিবেশ, মাছ ও জলজ প্রাণীর প্রাচুর্যই তাদের বারবার এই ক্যাম্পাসে টেনে আনে। তাই মৌসুমের শুরুতেই পাখিদের বিরক্তি কমাতে প্রশাসনের এই আগাম প্রস্তুতি।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে পাখি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। জলাশয়ের পাশে গাড়ি পার্কিং করা এবং জলাশয়ে মাছ ধরা যাবে না। ঢোল বাজানো, পটকা ফোটানো, হাততালি দেওয়া কিংবা অন্য কোনোভাবে উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া পাখিদের ভয়ভীতি না দেখানো এবং জলাশয়ে পানির বোতল, পলিথিনসহ কোনো ধরনের বর্জ্য না ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতি শীতেই দূরদেশ থেকে উড়ে আসা হাজারো পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে জাবির জলাশয়গুলো, যা দেখতে ভিড় করেন পাখিপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা। পাখিদের নির্বিঘ্নে থাকতে দিলে চলতি মৌসুমেও সেই চেনা দৃশ্য ফিরে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রশাসনের এই নির্দেশনা মেনে চললে অতিথি পাখিরা পুরো শীতকাল নির্বিঘ্নে ক্যাম্পাসের জলাশয়ে বিচরণ করতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পাখির প্রতি ভালোবাসা ও মমত্ববোধই তাদের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবার সহযোগিতা কামনা করেছে।