চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসংলগ্ন জনবসতি এলাকা থেকে উদ্ধার করা প্রায় ১২ ফুট লম্বা একটি রাজগোখরা তিন মাসের বেশি চিকিৎসা, পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণ শেষে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছে। শীঘ্রই এটিকে তার প্রাকৃতিক আবাসে অবমুক্ত করা হবে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ভেনম রিসার্চ সেন্টারের গবেষণা সহযোগী মোহাম্মদ নোমান জানান, কয়েক মাস আগে সাপটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছের জনবহুল এলাকায় চলে এলে সেটিকে উদ্ধার করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, এটি একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ রাজগোখরা, যার বয়স আনুমানিক তিন থেকে চার বছর। কেন্দ্রে আগে থেকেই একই এলাকা থেকে উদ্ধার করা আরেকটি পুরুষ রাজগোখরা থাকায় নতুন সাপটিকে বন্দি না রেখে সুস্থ করে বনে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উদ্ধারের সময় সাপটির শরীরে প্রচুর আঠালি ও অন্যান্য বাহ্যিক পরজীবী ছিল। চিকিৎসার পর সুস্থতার চূড়ান্ত লক্ষণ হিসেবে এর প্রথম সফল খোলস বদলের জন্য অপেক্ষা করা হয়। কোনো জটিলতা ছাড়াই খোলস বদল সম্পন্ন হওয়ায় নিশ্চিত হওয়া গেছে, সাপটি এখন অবমুক্তির জন্য সম্পূর্ণ উপযুক্ত।

বর্তমানে কেন্দ্রে একই আকারের আরও একটি পুরুষ ও একটি নারী রাজগোখরা রয়েছে। সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে প্রজনন কর্মসূচি শুরুর পরিকল্পনাও রয়েছে কেন্দ্রের। গবেষকদের ধারণা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে থাকা পাহাড়ি বন রাজগোখরার জন্য উপযুক্ত আবাস এবং সেখানে বেশ কয়েক জোড়া প্রজননক্ষম রাজগোখরা থাকতে পারে।

মোহাম্মদ নোমান বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব ছিল সাপটির চিকিৎসা ও পরিচর্যা। এটি এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যাতে উপযুক্ত আবাসে ছাড়া যায়। সুস্থ বন্য প্রাণীকে যত দ্রুত প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়া যায়, ততই ভালো।’ ভেনম রিসার্চ সেন্টার বলছে, উদ্ধার করা বন্য প্রাণীকে চিকিৎসা দিয়ে আবাসে ফিরিয়ে দেওয়া জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ; রাজগোখরার মতো শীর্ষ শিকারি প্রাণী বনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় অপরিহার্য ভূমিকা রাখে।

উল্লেখ্য, রাজগোখরা বিশ্বের দীর্ঘতম বিষধর সাপগুলোর একটি এবং মূলত অন্য সাপ খেয়েই বেঁচে থাকে। মানুষের চলাচলে সাধারণত এরা এগিয়ে আসে না; বরং জনবসতির কাছে চলে এলে ভয় ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ক্ষেত্রে সাপটিকে মেরে না ফেলে উদ্ধার করে চিকিৎসা ও পরিচর্যার মাধ্যমে আবার বনে ফিরিয়ে দেওয়াই সবচেয়ে টেকসই সমাধান। চবি ক্যাম্পাসের এই রাজগোখরাটির সুস্থ হয়ে ফিরে যাওয়া সেই ধারারই একটি সফল উদাহরণ হয়ে থাকল।