যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মহাবিপন্ন দক্ষিণের পাহাড়ি হলুদ-পা ব্যাঙের হাজারের বেশি সদস্য এখন পর্যন্ত তাদের প্রাকৃতিক আবাসে ছাড়া হয়েছে। সর্বশেষ ধাপে প্রায় ৬৫৩টি ব্যাঙ ছেড়েছেন অ্যাকুয়ারিয়াম অব দ্য প্যাসিফিক, লস অ্যাঞ্জেলেস চিড়িয়াখানা ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) কর্মীরা। এর মধ্যে ৩৯৪টি ব্যাঙ বড় হয়েছে অ্যাকুয়ারিয়ামেই—প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে এক ধাপে এটাই সবচেয়ে বড় মুক্তি।
এই ব্যাঙের আবাস সান গ্যাব্রিয়েল, সান বার্নার্ডিনো ও সান হাসিন্টো পর্বতমালার ঝরনা ও জলাশয়। কয়েক দশক ধরে বাসস্থান হারানোসহ নানা কারণে প্রজাতিটির সংখ্যা ভয়াবহভাবে কমে গেছে। ২০২০ সালের ববক্যাট দাবানলে এদের বেঁচে থাকা আবাসের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে অ্যাকুয়ারিয়ামটি সংরক্ষণ কর্মসূচিতে যোগ দেয়।
অ্যাকুয়ারিয়ামটি এখানে কাজ করে অনেকটা নার্সারির মতো: লস অ্যাঞ্জেলেস চিড়িয়াখানায় জন্ম নেওয়া ব্যাঙাচিগুলোকে সেখানে এক থেকে দুই বছর ধরে বড় করা হয়, যতক্ষণ না তারা পূর্ণাঙ্গ ব্যাঙে রূপ নেয়। ছাড়ার আগে প্রতিটি ব্যাঙের চলাচল, শারীরিক অবস্থা ও সার্বিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়; শেষ কয়েক সপ্তাহে খাবারের পরিমাণও বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
মুক্তির দিন ভোর সাড়ে চারটার দিকেই কর্মীরা ব্যাঙগুলো সংগ্রহ করেন; এরপর লম্বা যাত্রা ও হাঁটাপথ পেরিয়ে সেগুলোকে পাহাড়ি আবাসে পৌঁছে দেওয়া হয়। পানির পরিবেশে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পর ব্যাঙগুলোকে একাধিক স্থানে ছাড়া হয়, যাতে জনসংখ্যা বিস্তৃত এলাকায় ছড়াতে পারে। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আগে যেসব এলাকায় এই ব্যাঙ ছিল না, ছাড়ার পর সেখানেও এখন এদের দেখা মিলছে—যা প্রজাতিটির পুনরুদ্ধারের ইতিবাচক ইঙ্গিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জীববিজ্ঞানীরা মুক্তির স্থানগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন, যাতে বেঁচে থাকা ব্যাঙ ও বংশবৃদ্ধির প্রমাণ মিলিয়ে সাফল্য পরিমাপ করা যায়।
অ্যাকুয়ারিয়ামের সংরক্ষণ উদ্যোগের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক এরিন লান্ডি বলেন, এই মাইলফলক জনসাধারণ, দাতা, দর্শনার্থী ও অংশীদারদের অবিশ্বাস্য সমর্থনেরই প্রতিফলন। প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে পরের দলের ব্যাঙাচি লালনের প্রস্তুতি শুরু করেছে; শীত ও বসন্তজুড়ে বড় করে আগামী গ্রীষ্মে আবারও একদল ব্যাঙ ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ধারাবাহিকভাবে এই মুক্তি অব্যাহত থাকলে পাহাড়ি ঝরনাগুলোতে ব্যাঙের স্থায়ী ও স্বনির্ভর জনসংখ্যা আবার গড়ে উঠতে পারে।