বিশ্বে একশৃঙ্গ গণ্ডারের মোট সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৭৫টিতে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ভারতে আছে ৩ হাজার ৩২৩টি এবং নেপালে ৭৫২টি। শুধু ভারতের আসাম রাজ্যেই আছে আনুমানিক ৩ হাজার ২৬০টি গণ্ডার—অর্থাৎ বিশ্বের মোট একশৃঙ্গ গণ্ডারের প্রায় ৮০ শতাংশের আবাস এই এক রাজ্যেই।

এই গণ্ডারের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান, যেখানে গণ্ডারের সংখ্যা ২ হাজার ৬০০ ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ (চতুর্দশ) জরিপে কাজিরাঙায় পাওয়া গেছে ২ হাজার ৬১৩টি গণ্ডার, যা ২০১৮ সালের হিসাবের চেয়ে ২০০ বেশি। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত এই উদ্যান ছাড়াও মানস, ওরাং ও পবিতরা অভয়ারণ্যে গণ্ডার রয়েছে; পবিতরায় রয়েছে বিশ্বে এই গণ্ডারের সর্বোচ্চ ঘনত্ব। মানস জাতীয় উদ্যানে বর্তমানে আছে আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০টি গণ্ডার।

সাফল্যের পেছনে রয়েছে কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা। চোরাশিকারবিরোধী টহল, নজরদারি ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে ২০২৫ সালে আসামে গণ্ডার শিকারের কোনো ঘটনাই ঘটেনি—সত্তরের দশকের পর এমন ঘটনা এবার নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বার। ২০২৪ সালে শুরু হওয়া 'অপারেশন ফ্যালকন' চোরাশিকার দমনে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

একসময় এই গণ্ডার সিন্ধু, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা জুড়ে—এমনকি বাংলাদেশেও—বিচরণ করত। কিন্তু অতিরিক্ত শিকার ও কৃষি সম্প্রসারণে এর বিচরণ এলাকা চরমভাবে সংকুচিত হয়ে পড়ে; বিশ শতকের নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বিশ্বে এদের সংখ্যা নেমে এসেছিল ২ হাজারেরও নিচে। সেখান থেকে ভারত ও নেপাল সরকারের দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ব্যবস্থাই প্রজাতিটিকে আজকের অবস্থানে এনেছে। ভারতে প্রজাতিটি ১৯৭২ সালের বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইনের আওতায় সুরক্ষিত।

আইইউসিএনের লাল তালিকায় একশৃঙ্গ গণ্ডার এখনো 'ঝুঁকিপূর্ণ' (ভালনারেবল) শ্রেণিতে আছে। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ একশৃঙ্গ গণ্ডারের ওজন দুই টনেরও বেশি হতে পারে এবং এদের একমাত্র শিংটি লম্বায় প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। 'ইন্ডিয়ান রাইনো ভিশন ২.০' কর্মসূচির লক্ষ্য হলো বাসস্থান উন্নয়ন ও বিচরণ এলাকা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে আসামে গণ্ডারের সংখ্যা সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজারে নেওয়া। পুনঃপ্রবর্তন কর্মসূচির আওতায় মানস জাতীয় উদ্যানেও গণ্ডার ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যা প্রজাতিটির বিস্তারে নতুন আশা জাগাচ্ছে। তবে চোরাশিকার এখনো এই প্রজাতির জন্য ধারাবাহিক হুমকি হয়ে আছে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা; তাই সুরক্ষা ব্যবস্থায় কোনো শিথিলতার সুযোগ নেই।