শহরে থাকতে থাকতে প্রাণীরা হয়ে উঠছে আরও সাহসী, আক্রমণাত্মক আর ঝুঁকি নিতে আগ্রহী। বিশ্বজুড়ে পরিচালিত এক বড় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একই প্রজাতির শহুরে ও গ্রামীণ সদস্যদের আচরণে এই পার্থক্য ধারাবাহিকভাবে দেখা যাচ্ছে। Journal of Animal Ecology সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাটিকে এ ধরনের প্রথম বৈশ্বিক মেটা-বিশ্লেষণ বলছেন গবেষকেরা।
যুক্তরাষ্ট্রের লুইস অ্যান্ড ক্লার্ক কলেজ, ফ্রান্সের সিএনআরএস ও নর্থ ডাকোটা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা আগের ৮০টি গবেষণার তথ্য একত্র করেছেন। এসব গবেষণায় ছিল ২৮টি দেশের ১৩৩টি প্রজাতি—পাখি, স্তন্যপায়ী, উভচর, সরীসৃপ ও পোকামাকড়। ফলাফলে দেখা যায়, শহরের প্রাণীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সাহসী, আক্রমণাত্মক, অনুসন্ধিৎসু ও সক্রিয়। পার্থক্যটি সবচেয়ে স্পষ্ট পাখিদের মধ্যে।
গবেষণার প্রধান লেখক Tracy Burkhard বলেছেন, পৃথিবীর যে প্রান্তেই হোক, নগরায়ণ একই ধরনের অনুমানযোগ্য উপায়ে প্রাণীদের আচরণ বদলে দিচ্ছে; সবচেয়ে শক্তিশালী ফল হলো, প্রাণীরা ঝুঁকির ব্যাপারে বেশি ইতিবাচক হয়ে উঠছে। তবে গবেষণার তথ্যে ভারসাম্যের ঘাটতিও আছে। মোট গবেষণার ৭০ শতাংশের বেশি ছিল পাখি নিয়ে, আর পোকা, উভচর ও সরীসৃপ মিলে মাত্র ১০ শতাংশ। ফলে অন্যান্য দলের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত এখনো সীমিত তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে।
বদলটি শুধু ইঁদুর, গাংচিল বা কবুতরের মতো পরিচিত শহুরে প্রাণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গ্রামীণ আবাসের সঙ্গে পরিচিত হোয়াইটথ্রোট, ইয়েলোহ্যামার ও রেডপোলের মতো পাখিরাও শহরে খাপ খাওয়াতে গিয়ে একই আচরণগত বদল দেখাচ্ছে। মানুষের উপস্থিতিতে ভয় কমে যাওয়া মানেই মানুষের সঙ্গে প্রাণীর মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা বাড়তে পারে, যা বাড়াতে পারে সংঘাত ও প্রাণী থেকে মানুষে রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন আচরণগত বদল অনেক প্রাণীকে শহরে টিকে থাকতে সাহায্য করলেও মানুষের জন্য তা নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জও তৈরি করতে পারে।
গবেষকদের পরামর্শ, শহর পরিকল্পনায় এখন প্রাণীদের আচরণের কথাও ভাবতে হবে। পরস্পর যুক্ত সবুজ এলাকা তৈরি করা গেলে শহরের ভেতরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া প্রাণীদের মধ্যে যোগাযোগ ও জিনপ্রবাহ বজায় থাকবে। শহর যত বাড়বে, মানুষের পাশাপাশি বাস করা প্রাণীদের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে এই পরিকল্পনার ওপর।