এশীয় হাতির ডিএনএতে লুকিয়ে আছে উদ্বেগের গল্প। চারটি উপপ্রজাতির ৮১টি হাতির পুরো জিনোম বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, উপপ্রজাতিগুলোর জিনগত স্বাস্থ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। Genome Biology and Evolution সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাটি বলছে, কোন জনগোষ্ঠী কতটা ঝুঁকিতে তা জানা গেলে সংরক্ষণের পদক্ষেপও হবে লক্ষ্যভিত্তিক।
এশীয় হাতি আইইউসিএনের লাল তালিকায় বিপন্ন। আবাস ধ্বংস ও খণ্ডিত হওয়া, মানুষের সঙ্গে সংঘাত আর চোরাশিকারে জনগোষ্ঠীগুলো দিন দিন ছোট ও বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। এতে বাড়ছে কাছাকাছি আত্মীয়দের মধ্যে বংশবৃদ্ধি, কমছে জিনগত বৈচিত্র্য। গবেষণার নমুনার বড় অংশ এসেছে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার চিড়িয়াখানার হাতিদের রক্ত থেকে; আন্তর্জাতিক বায়োব্যাংকে সংরক্ষিত তথ্যে প্রতিটি নমুনার উৎস জানা থাকায় উপপ্রজাতি অনুযায়ী ভাগ করা সম্ভব হয়েছে।
ফলাফলে দেখা গেছে, বোর্নিওর হাতির মধ্যে আত্মীয়-প্রজননের হার সবচেয়ে বেশি; এদের ডিএনএর প্রায় ৬৫ শতাংশ বাবা-মা দুজনের কাছ থেকে একই রকমভাবে পাওয়া। সুমাত্রার হাতির ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৩৫ শতাংশ। অন্যদিকে মূল ভূখণ্ডের হাতিদের মধ্যে হারটি প্রায় ১১ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে প্রায় ১০ শতাংশ। জিনগত বৈচিত্র্য কমলে নতুন রোগ বা বদলে যাওয়া জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাওয়ানো কঠিন হয়ে পড়ে, আবার ক্ষতিকর বংশগত বৈশিষ্ট্য প্রকাশের আশঙ্কাও বাড়ে।
সবচেয়ে অবাক করা ফল এসেছে শ্রীলঙ্কার হাতি নিয়ে। দ্বীপের জনগোষ্ঠীর জিনগত বৈচিত্র্য সাধারণত কম থাকে, কিন্তু শ্রীলঙ্কার হাতিদের বৈচিত্র্য তুলনামূলক বেশি, এবং মূল ভূখণ্ডের কয়েকটি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের জিনগত মিলও রয়েছে। গবেষকদের ধারণা, শত শত বছর ধরে যুদ্ধ, বাণিজ্য ও অনুষ্ঠানের জন্য দ্বীপ ও মূল ভূখণ্ডের মধ্যে হাতি আনা-নেওয়াই হতে পারে এর কারণ। তবে এই ধারণা যাচাইয়ে আরও গবেষণা দরকার বলে জানিয়েছেন তারা।
আশার কথাও আছে। এত পার্থক্য সত্ত্বেও উপপ্রজাতিগুলো এখনো তাদের মূল জিনগত বৈচিত্র্যের বড় অংশ ধরে রেখেছে। ফলে যেসব জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্য কম, সেখানে অন্য জনগোষ্ঠী থেকে হাতি এনে বৈচিত্র্য বাড়ানো, অর্থাৎ জিনগত উদ্ধারের সুযোগ থাকতে পারে। তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, স্থানীয় অভিযোজন হারানোর ঝুঁকিসহ পরিবেশগত ও নৈতিক দিক বিবেচনা না করে এমন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়।